maa saradaOthers 

শ্রী শ্রী মা সারদার জন্মদিবস

আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: সারদা দেবীর জন্ম ১৮৫৩ সালের ২২ ডিসেম্বর। হিন্দু ধর্মগুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসের পত্নী ও সাধনসঙ্গিনী এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সংঘজননী সারদা মা। ভক্তদের কাছে তিনি শ্রীশ্রীমা নামে পরিচিত। রামকৃষ্ণ আন্দোলনের বিকাশ ও প্রসারে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

এক সময় জয়রামবাটী গ্রামে সারদা দেবীর জন্ম হয়েছিল। তাঁর পূর্ব নাম ছিল সারদামণি মুখোপাধ্যায়। মাত্র ৫ বছর বয়সে শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়েছিল। গার্হস্থ ও সন্ন্যাস জীবনের আদর্শ স্থাপন করার জন্য তিনি এবং তাঁর স্বামী উভয়েই অবিচ্ছিন্ন ব্রহ্মচর্যের অনুশীলন করে জীবনযাপন করেছেন। আবার শ্রীরামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর তাঁর পরবর্তী জীবন অতিবাহিত হয়েছিল জয়রামবাটি ও কলকাতার উদ্বোধন ভবনে।

সারদা মায়ের সমগ্র জীবন কেটেছে স্বামী, ভ্রাতা ও ভ্রাতৃ-পরিবারবর্গ এবং তাঁর আধ্যাত্মিক সন্তানদের প্রতি সেবা ও আত্মত্যাগে। শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যগণ তাঁকে নিজ জননীর আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সামান্য গ্রাম্য নারীর জীবন অতিবাহিত করলেও তিনি তাঁর জীবিত অবস্থায় এবং পরবর্তী সময়েও ভক্তদের নিকট মহাশক্তির অবতার রূপে পূজিত হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমায় জয়রামবাটীর একটি দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে সারদা দেবী জন্মেছিলেন। তাঁর পিতা রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও মাতা শ্যামাসুন্দরী দেবী। তাঁরা অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ মানুষ ছিলেন বলে জানা যায়। সারদা দেবীর পিতা পুরোহিতবৃত্তি ও কৃষিকাজ করে জীবিকানির্বাহ করতেন।

১৯১৯ সাল। জানুয়ারি মাসে শ্রীমা জয়রামবাটী যাত্রা করেছিলেন। সেখানেই তিনি ১ বছর কাটিয়েছিলেন। সেখানে শেষ তিন মাস তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছিল। ১৯২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁকে কলকাতায় আনা হয়েছিল। এরপর শেষের দিকে রোগযন্ত্রণায় অত্যন্ত কষ্ট পেতেন তিনি।

মৃত্যুর পূর্বেও এক শিষ্যাকে সারদা মায়ের উপদেশ ছিল- ‘যদি শান্তি চাও, মা, কারও দোষ দেখো না। দোষ দেখবে নিজের। জগৎকে আপন করে নিতে শেখ। কেউ পর নয়, মা, জগৎ তোমার’। এই উপদেশটি বিশ্ববাসীর কাছে তাঁর শেষ বার্তা ছিল। ১৯২০ সালের ২০ জুলাই রাত দেড়টা নাগাদ কলকাতার উদ্বোধন ভবনে সারদা মা অমৃতলোকে যাত্রা করেন। বেলুড় মঠে গঙ্গাবক্ষের তীরে এই দরদী মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল। ওই স্থানটি বর্তমানে শ্রীমা সারদা দেবীর সমাধিমন্দির হিসেবে পরিচিত।

Related posts

Leave a Comment